আপনার ক্যামেরাটি হলো একটি যন্ত্র যেটা আপনি সম্পুর্ণ কনফিডেন্সের সাথে ব্যাবহার করতে পারবেন।আপনাকে এমন হওয়া যাবেনা যে ক্যামেরা এর সব সেটিংস আপনাকে ইউজার মেনুয়াল দেখে দেখে ঠিক করতে হয় ; আর অটো মোড ইউজ করে ছবি তুলতে হয়। এখানে সবচেয়ে দরকারী কয়েকটি সেটিংস ভালোভাবে বুঝানোর চেষ্টা করলাম , যেগুলোতে আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।

শুটিং মোডের পরিবর্তন করুন

picture collected from EosViewFinder

বেশিরভাগ ক্যামেরা ইউজাররাই অটো মোড ইউজ করে এবং এপারচার প্রায়োরিটি প্রোগ্রাম কেই দিয়ে দেয় ছবি তোলার সময় এবং সব কিছু ঠিকঠাক করার দ্বায়িত্ব।

ক্যানন ক্যামেরা তে আপনি উপরের ডায়াল টি ঘুরিয়ে এর বিভিন্ন মোড পরিবর্তন করতে পারবেন একটি থেকে অন্য টি তে। এন্ট্রি লেভেল এর ক্যামেরাগুলোতে মিড রেঞ্জের ক্যামেরাগুলোর চেয়ে তুলনামূলক বেশী মোড থাকে। যেমনঃ পোট্রেইট, ম্যাক্রো এবং স্পোর্টস।

শাটার স্পিড, অ্যাপারচার, এক্সপোজার এর পরিবর্তন করুন

collected from ericthroughthelens

আপনি যখন ম্যানুয়াল বা সেমি-অটোমেটিক মোড চালান তখন শাটার স্পিড, অ্যাপারচার এবং এক্সপোজার এর মধ্যে কিছু মিল রাখতে হবে। ক্যাননের দামি ক্যামেরাগুলোতে প্রত্যেকটা সেটিংস এর জন্যে আলাদা আলাদা ডায়াল আছে।কিন্ত শুরুর দিকের দামী ক্যামেরা গুলোতে শাটার বাটন এর পিছনে মাত্র একটা ডায়াল থাকে এবং এর নিচে থাকে এক্সপোজার পরিবর্তন করার বাটন; আর এই ডায়াল ঘুরিয়ে সব সেটিংস পরিবর্তন করা যায়।

© প্রোগ্রাম মোডের ডায়াল দিয়ে অ্যাপারচার পরিবর্তন করা যায়,নাহলে ক্যামেরা নিজেই সেটা পরিবর্তন করে নেয়;যদি অটোমোডে থাকে ।

© অ্যাপারচার প্রায়োরিটি মোডে ডায়ালটি অ্যাপারচার পরিবর্তন করে এবং এক্সপোজার বাটন ও ডায়াল এক্সপোজার পরিবর্তন করে।

© শাটার প্রায়োরিটি মোডে ডায়াল শাটার স্পিড পরিবর্তন করে ।

© মেনুয়াল মোড এ ডায়াল শাটার স্পিড পরিবর্তন করে।

“আই এস ও” ঠিক করুন

shot by pinterest

“আই এস ও” এক্সপোজার মান এর ৩য় ধাপ।’আই এস ও’ ঠিক করার জন্যে আপনার ক্যামেরা এর উপরের ‘আই এস ও’ বাটনে চাপ দিন, তারপর ‘আই এস ও’ পরিবর্তন এর জন্য শাটার স্পিড ডায়াল বা ক্যামেরার পিছনের ‘ডি প্যাড’ দিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ‘আই এস ও’ পরিবর্তন করুন। এরপর ‘আই এস ও’ বাটন টি আবার চাপ দিন এবং শাটার স্পিড বাটন অর্ধেক নিচের দিকে দিন বা ‘ডি প্যাড’ এর সেট বাটন ব্যাবহার করে আপনার সিলেকশন নিশ্চিত করুন।

হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করুন

captured by fstoppers

আপনার ব্যাবহ্রত সময়ের দিনের আলো,আবহাওয়া,ও লাইট সোর্স এর উপর নির্ভর করে এর একটি কালার টেম্পারেচার মোড আছে যেখানে সন্ধার জন্য গাঢ় কমলা এবং রৌদ্রউজ্জ্বল দিনের জন্য হাল্কা নিল এর শেড ব্যাবহার করা যায়।আপনার ক্যামেরা তে নিজস্ব অটো হোয়াইট ব্যালান্স মোড আছে।কিন্ত আপনাকে তবুও এটা ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করা জানতে হবে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাবহার এর জন্য;আর ছবিকে প্রাণ দানের জন্য।

আপনার ক্যামেরা এর পিছনের হোয়াইট ব্যালান্স বাটন এ চাপ দিন এবং ডি প্যাড দিয়ে অপশন গুলোর মদ্ধে থেকে একটা সিলেক্ট করুনঃ

© অটো হোয়াইট ব্যালান্স

© ডে লাইট

© শেড

© ক্লাওডি

© টাংস্টেন লাইট

© হোয়াইট ফ্লুরোছেন্ট লাইট

© ফ্ল্যাশ

© কাস্টম

অটো ফোকাস মোড ও অটোফোকাস পয়েন্ট ঠিক করুন

collected from .amateurphotographer

আপনার ক্যানন ক্যামেরা তে তিন ধরনের অটোফোকাস মোড রয়েছে ; “ওয়ান শট” এ আই ফোকাস এবং এ আই “সারভো”। এরা প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা কাজ করে এবং এদের মধ্যে থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে হয়।

এদের পরিবর্তন করতে ক্যামেরার পিছনের এ এফ বাটন প্রেস করতে হবে তারপর ডি প্যাড ব্যাবহার করে পরিবর্তন করতে হবে।

আপনার ক্যামেরা তে বেশ কয়েকটি সেন্সর আছে অটোফোকাস পয়েন্ট ঠিক করার জন্য । এটি বাই-ডিফল্ট ভাবেই কোনো ছবিতে কোন পয়েন্ট টি ফোকাস করতে হবে তা ধরে নেয়। এছাড়া আপনি ম্যানুয়ালি করতে চাইলে এ এফ বাটন এ প্রেস করে ডি প্যাড দিয়ে পয়েন্ট সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনি যখন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার দিয়ে ফোকাস এঙ্গেল দেখবেন তখন সেটা নিজে থেকেই আপনার দেওয়া ফোকাস পয়েন্টে ফোকাস করবে।

সেল্ফ টাইমার এবং শুটিং মোড ঠিক করুন

আপনি যখন কোন গ্রুপ ছবি তুলতে যাবেন তখন এটা বেশী প্রয়োজন হয়। যখন কোনো গ্রুপ ছবি তুলতে যান এবং আপনাকেও সেই ছবিতে থাকতে হয় তখন সেল্ফ টাইমার এর ব্যাবহার হয়। ক্যানন এর সব ক্যামেরাতেই প্রায় এই সেল্ফ টাইমার মোড আছে এবং এটা ২ সেকেন্ড বা ১০ সেকেন্ড এর টাইমার এ সেট থাকে।

সেল্ফ টাইমার শুটিং মোড টির বাটন সাধারনত ক্যামেরার পিছনের দিকেই থাকে। এটা পিছনের দিকে থাকা আইকন দেখলেই চেনা যায়। বাটনটি চাপ দিলে ২ সেকেন্ড এর নেক্সট বাটন আসবে অথবা এটার ডিফল্ট ১০ সেকেন্ড দেওয়া থাকে। যা প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারবেন।

সেল্ফ টাইমার ব্যাবহার শেষ হলে সেল্ফ টাইমার বাটনে আবার আরেকবার চাপ দিলে সেটা অন্য মোডে যেতে পারবেন এবং সেটা ডি প্যাড দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে।

ক্যামেরাকে মুভি মোড এ নিয়ে আসুন

photo from Nicholas Hill

আপনার ক্যানন ক্যামেরা তেও খুব ভালোভাবে ভিডিও শুট করতে পারবেন। কয়েক বছর আগে রিলিজ হওয়া ক্যানন এর শুরুর লেভেলের ক্যামেরাগুলোতে পাওয়ার বাটন এ দুইবার ক্লিক করলেই ভিডিও মোড অন হয়ে যেতো।

ভিডিও রেকর্ড শুরু করার জন্য লাইভ ভিউ/রেকর্ড বাটনে ক্লিক করতে হবে। ভিডিও মোডে থাকলেও শাটার বাটন চেপে ছবি তুলতে পারে।

ছবির কোয়ালিটি পরিবর্তন

made by Adrian Salisbury

‘র’(RAW) ইমেজ ফাইল হলো সব ক্যামেরার শুট করার সর্ব-উচ্চ মাত্রা।

সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির জন্য জে-পি-ই-জি (jpeg) ফরম্যাট ব্যাবহার করা উচিত। এই দুই কোয়ালিটির মধ্যে পরিবর্তন করতে ক্যামেরার পিছনের মেনু বাটন এ প্রেস করতে হবে । প্রথম অপশন টি সাধারন ছবির মান। এটি বেছে নিন তারপর ‘র’ ফরম্যাট বাছাই করুন।

ছবি রিভিউ করুন

আপনার ছবি তোলার পর সেই ছবিগুলো দেখে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কারন কেউই চায়না সব ছবি তোলার পর এটা দেখুক যে তার সব ছবির ফোকাস ভুল জায়গায় হয়েছে।

ছবি রিভিউ করার জন্য ক্যামেরার পিছনের প্লে বাটন এ চাপ দিন। এরপর ডি প্যাড দিয়ে ছবির জায়গা চিহ্নিত করুন এবং ‘জুম-ইন’ ও ‘জুম-আউট’ বাটন দিয়ে ভালোভাবে ছবির ডিটেলস দেখুন। কারন আপনার ক্যামেরার ছোট স্ক্রিন এ যেটা সামান্য কিছু মনে হচ্ছে সেটা কম্পিউটার এ অনেক বেশি খারাপ লাগবে।

ছবি ডিলিট করা ছাড়াই এস ডি কার্ড ফরম্যাট করুন

taken from diyphotography

ছবি তোলার পর তা ডিলেট করা খুব বদ অভ্যাস। এতে এস ডি কার্ড টি করাপ্টেড হতে পারে। তার চেয়ে ভালো হলো ছবি তোলার শুরুতে বা এস ডি কার্ড ফুল হয়ে গেলে তা ফরাম্যাট করা।

মেমোরি কার্ড ফরম্যাট এর অপশন টি মেনু এর মধ্যেই রয়েছে। মেনু বাটনে চাপ দেওয়ার পর ডি প্যাড দিয়ে স্ক্রিনের প্রথম অপশনটিতে সিলেক্ট দিন। এরপর সেখানে থাকা “ফরম্যাট কার্ড” অপশন টি সিলেক্ট করে দিন এবং তৈরি হয়ে যান পরের শুটিং এর জন্য।

আশা করি অনেকটুকুই বুঝাতে এবং সহজ করে দিতে সক্ষম হয়েছি । আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের সাথে জুড়ে থাকুন ।